শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
spot_img
হোমসর্বশেষচাঁদাবাজদের হুমকিতে মোহাম্মদপুরের বছিলায় পুরো একটি মার্কেটই এখন বন্ধ

চাঁদাবাজদের হুমকিতে মোহাম্মদপুরের বছিলায় পুরো একটি মার্কেটই এখন বন্ধ

নতুন সরকার শপথ নেয়ার দ্বিতীয় দিন ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা সিটি ডেভলপার্স এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী শাহিনের দোকানে চার মোটরসাইকেলে হাজির হন আট যুবক।দোকানের কর্মচারীর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তারা।

না দিলে গুলি করার হুমকি দেন। পরে দোকান কর্মচারীকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে চলে যান ওই যুবকরা। দোকানের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এমন একটি ভিডিও।

১৯ ফেব্রুয়ারি বছিলার ৪০ ফিট রোডে এ কে পিচ টাওয়ারের নিচ ও দোতলার সব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন কয়েকজন।ঘটনার পর থেকে দোকান বন্ধ করে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। ভুগছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। প্রশাসনের সাহায্য চেয়ে থানায় করেছেন মামলা।

ভুক্তভোগীর দাবি, ‘সামনাসামনি চাঁদা চাইতে পারে না। বল, ব্যাট কেনার টাকা চায়। মহাজনও দিয়ে দেয় যাতে কোনো ঝামেলা না হয়। এমন করতে করতে পরদিন এসে বলে ‘২ লাখ টাকা দিবি না হয় কবরে থাকবি।’

আরেক ভুক্তভোগী জানান, ‘এখানে ফারুক নামের একজন চাঁদা চাইতে আসে। জীবনের হুমকি দিয়ে গিয়েছে। ভয়ে আমি দুইদিন ফোন বন্ধ করে রেখেছি।’

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় কয়েকজনের একটি দল এসে হুমকি দিয়ে বলছে, ‘এই মার্কেট বন্ধ। তোগো মালিকরে কবি ফারুক কইছে মার্কেট বন্ধ রাখতে। কে কইছে ফারুক? ফারুক।’

জানা যায়, চাঁদার দাবিতে যে ফারুকের নামে এই হুমকি দেয়া হয়েছে, তাকে অনেকে বলে থাকেন ‘কালা ফারুক’। কয়েকদিন আগে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল সেনাবাহিনী। তিনি মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসীখ্যাত বাদল এবং সাবেক শ্রমিকদল নেতা আলী কায়সার পিন্টুর অনুসারী।

বছিলার সিটি ডেভলপার্সের মূল সড়কের ফুটপাতে বসা দোকান থেকেও চাঁদা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে ফারুকের বিরুদ্ধে।ফুটপাতের এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, ‘দোকানটাই আমার আউট হয়ে যাবে আপনারে যদি এই ব্যাপারে গোপন কথা কই।’

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারের পর জামিনে ছাড়া পেয়েছেন ফারুক। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।

এদিকে রাজধানীতে প্রায় প্রতিটি এলাকায় চলছে এমন চাঁদাবাজির ঘটনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাণভয়ে কেউ প্রশাসনের শরণাপন্ন হন না। তাই অনেকটা নীরবে এসব চাঁদাবাজদের সহ্য করছেন ভুক্তভোগীরা। নতুন সরকার শপথ নেয়ার দুদিনের মাথায় এ ধরনের চাঁদাবজির ঘটনা। প্রশ্ন হচ্ছে, এ চাঁদাবাজদের রুখবে কে?

সম্পর্কিত খবর