রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম বলেছেন, পুরান ঢাকাকে আধুনিক নাগরিক সেবাসংবলিত মডেল টাউন হিসাবে দাঁড় করাতে চাই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখেছি-যে জায়গা যেমন সেখানে সেভাবেই উন্নয়ন করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে বন কেটে, নদী ভরাট করে, পাহাড় কেটে উন্নয়ন করা হয়। এমন উন্নয়নের ধারা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজারে ঢাকা সমিতির মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগরীর টেকসই নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং পুরান ঢাকার ঝুঁকি নিরসনের লক্ষ্যে ঢাকা সমিতি ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) যৌথ উদ্যোগে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম। বিনিময় শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
ঢাকা সমিতির সভাপতি ইসমাইল নওয়াবের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইমরানের সঞ্চালনায় সভায় পুরান ঢাকার সব পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় রাজউকের পক্ষ থেকে একটি পরিকল্পনা প্রদর্শন করা হয়। সেখানে পুরান ঢাকাকে আধুনিক নাগরিক সেবাসংবলিত মডেল টাউন হিসাবে উপস্থাপন করা হয়। ঢাকা সমিতির সহ-সভাপতি এসএম নাজিমুদ্দিন বলেন, এলাকাবাসী আগে রাজউককে ভয় পেত, রাজউক নাম শুনলেই মনে করত কখন যে এসে আমাদের ভবন ভেঙে দেবে। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই ভয় ভেঙে গেছে। আমার কষ্ট হয় যখন যে জায়গা থেকে ঢাকা গোড়াপত্তন হয়েছে, সেই জায়গাকে পুরান ঢাকা বলা হয়। আসল ঢাকা আজ পুরান ঢাকা হয়ে গেল এবং নাগরিক সুবিধা আমাদের হাতছাড়া।
ঢাকা সমিতির মহাসচিব আবু মোতালেব বলেন, ঢাকাইয়ারা কখনো মেহমান বাড়িতে এনে আপ্যায়ন না করে বিদায় করে না। আমরা রাজউকের সঙ্গে একত্রে কাজ করব। আমাদের সঙ্গে আগে প্রতারণা করা হয়েছে। তাই জেলখানার পরিত্যক্ত জায়গায় পরীক্ষামূলক প্রকল্প বানিয়ে দেখানো হলে আমরা জমি দেব। অতীতে পুরান ঢাকায় ১০০টি খাল ছিল, তিনটি নদী ছিল সেগুলো উদ্ধার করা হোক। পুরান ঢাকায় মেট্রোরেলের ব্যবস্থা হোক, প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হোক। এসব ক্ষেত্রে আমাদের যত সহায়তা লাগে সব আমরা দেব।

