হোম রাজনীতি শিশির মনিরের চেয়ে স্ত্রীর আয় বেশি

শিশির মনিরের চেয়ে স্ত্রীর আয় বেশি

সুনামগঞ্জ-২ আসন

0

সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই-শাল্লা) জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরের স্ত্রীর আয় তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ এবং অস্থাবর সম্পদ তিন গুণেরও বেশি। বছরে তার আয় ৫১ লাখ টাকা। স্ত্রীর আয় ৮৯ লাখ টাকা। নিজের আয় ও দলের কর্মী-শুভানুধ্যায়ীদের দানের টাকায় নির্বাচনের ব্যয় মেটাবেন তিনি। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র এই আইনজীবীর বাড়ি ওই আসনের শাল্লা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে। এটা তার প্রথম সংসদ নির্বাচন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ছিলেন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দুজন। তারা হলেন-সাবেক এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির চৌধুরী ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, শিশির মনিরের পেশা আইন ব্যবসা। আইন পেশা থেকে তার বছরে আয় ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৪০৭ টাকা। অন্যান্য উৎস (ব্যাংক লভ্যাংশ ইত্যাদি) থেকে ৯৬ হাজার ৫৯৩ টাকা। তার স্ত্রী সুমাইয়া সাদিয়া রায়হানের পেশা বেসরকারি চাকরি। তার বার্ষিক আয় ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৫১৫ টাকা। এর মধ্যে পেশা থেকে ৬৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৩২ টাকা; শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়, ব্যাংক আমানত থেকে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮৩৮ টাকা, অন্যান্য উৎস (ব্যাংক লভ্যাংশ ইত্যাদি) থেকে ২০ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৫ টাকা। শিশির মনিরের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫১ লাখ ৪ হাজার ৩০৪ টাকা। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৩ টাকা। শিশির মনিরের কাছে নগদ আছে ৯ লাখ ৫২ হাজার ৪ টাকা, ব্যাংকে ২ হাজার ৩০০ টাকা, যানবাহন ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার, ইলেকট্রনিক পণ্য ৪ লাখ টাকার, সোনা আছে ২৫ ভরি, এগুলো উপহার হিসাবে পাওয়া।

সুমাইয়া সাদিয়ার কাছে নগদ অর্থ আছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৬৫ টাকা, ব্যাংকে ৩৮ লাখ ২৬ হাজার ৩১৭ টাকা, বন্ড ঋণপত্র ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৫ টাকা, যানবাহন ৪৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার, উপহার হিসাবে পাওয়া ২৫ ভরি সোনা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৭ লাখ ২০ হাজার ৪০০ টাকার। তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তবে শিশির মনিরের ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৭ হাজার ৪২০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ (অকৃষি-জমি) আছে বলে হলফনামায় উল্লেখ আছে।

শিশির মনির হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি নির্বাচনে ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। এই টাকার মধ্যে তার পেশাগত আয় থেকে ২০ লাখ টাকা এবং জামায়াতে ইসলামী দেবে ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দলের এই টাকা কর্মী-শুভানুধ্যায়ীদের দান। এদিকে শিশির মনিরের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা। এই মামলা হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে কার্যক্রম স্থগিত আছে। অন্য মামলাটি তদন্তাধীন। শিশির মনিরের প্রতিদ্বন্দ্বী নাছির চৌধুরীর বাড়ি দিরাই উপজেলা সদরের আনোয়ারপুরে। তার পেশা কৃষি। কৃষি থেকে তিনি বছরে আয় দেখিয়েছেন চার লাখ টাকা। স্ত্রী পারভিন আকতার গৃহিণী। নাছির চৌধুরী নগদ, ব্যাংকে জমা, ইলেকট্রনিক ও আসবাবসামগ্রী বাবদ অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ১৪ লাখ টাকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে তিন একর কৃষিজমি। স্ত্রীর সম্পদ বলতে পাঁচ ভরি সোনা রয়েছে। তার নামে কোনো মামলা নেই। নাছির চৌধুরী নির্বাচনে ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।

বিএনপির অপর প্রার্থী তাহির চৌধুরীর বাড়ি দিরাই উপজেলা সদরের মজলিসপুরে। পেশা আইন ব্যবসা। তিনি কৃষি ও অন্যান্য খাতে বছরে আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ টাকা। তার স্ত্রী রোমেনা রায়হান চৌধুরী যুক্তরাজ্য প্রবাসী। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩৪ লাখ ৮ হাজার ৮৯২ টাকা, একটি প্রাইভেটকারের দাম ১০ লাখ টাকা, ২০ ভরি সোনা, ইলেকট্রনিক ও আসবাব ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার স্থাবর বলতে ১১ একর কৃষিজমি আছে। তাহির চৌধুরী নির্বাচনে ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা নিজের, বাকি ১৫ লাখ টাকা দেবেন তার যুক্তরাজ্য প্রবাসী দুই ভাই। তার নামে কোনো মামলা নেই।

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Exit mobile version