হোম বাংলাদেশ কারাগারে ঠিকাদার ও যুবদলকর্মী

কারাগারে ঠিকাদার ও যুবদলকর্মী

চাঁদা না দেওয়ায় উলটো মামলা

0

রাজশাহীর পবার নওহাটা পৌর এলাকায় বৃহস্পতিবার একটি রাস্তার কাজের ঠিকাদার ও উপঠিকাদারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নিতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হন বিএনপিকর্মী আতাবুর রহমান (৩৭)।

এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগে ওই রাতে মামলা করতে পবা থানায় যান উপঠিকাদার যুবদলকর্মী আজাদ আলী (৪৮)। সঙ্গে ছিলেন রাস্তা নির্মাণের মূল ঠিকাদার হাসানুজ্জামান বিপ্লব (৪৫)। খবর পেয়ে ওই সময় বিএনপি নেতা আতাবুরের ক্যাডাররা পবা থানায় হাজির হয়ে পুলিশের সামনেই ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে বেধড়ক মারধর করে যুবদল নেতা আজাদ আলী ও ঠিকাদার হাসানুজ্জামান বিপ্লবকে।

আতাবুরের লোকরা ঠিকাদারসহ যুবদলকর্মীকে থানা হাজতে ঢোকাতে বাধ্য করে পুলিশকে। গভীর রাতে আতাবুরের বাবা মতিউর রহমান বাদী হয়ে যুবদল কর্মীসহ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ জমা দেন। পুলিশ কোনো কিছু যাচাই না করেই অভিযোগটি মামলা আকারে রেকর্ড করেন। শুক্রবার বিকালে আজাদ আলী ও ঠিকাদার হাসানুজ্জামান বিপ্লবকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় পবা থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, ‘আতাবুর বর্তমানে বিএনপির কোনো পদে না থাকলেও দলের নাম ভাঙিয়ে বহু অপকর্ম করেছেন। বিশেষ করে গত বছর ৫ আগস্টের পর আতাবুর চাঁদাবাজিসহ বহু অপকর্মে জড়িয়েছেন। বিভিন্নজনকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ট্যাগ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, মারধর করেছেন। দলের ভেতরে তার শেল্টারদাতা রয়েছেন। আতাবুরের চাঁদাবাজির ভাগ তারা হয়তো পেয়ে থাকেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পবার নওহাটা পৌরসভার একটি সড়কের কাজ পান ঠিকাদার হাসানুজ্জামান বিপ্লব। সড়কটিতে মাটি ভরাটের কাজ দেওয়া হয় যুবদল নেতা আজাদ আলীকে। বৃহস্পতিবার ঠিকাদার সড়কের কাজ শুরু করেন। আজাদ আলীও সড়কে মাটি ফেলার কাজ করছিলেন। এ সময় আতাবুর গিয়ে মাটি ফেলার কাজ জোর করে বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে আজাদ আলী ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

কাজ বন্ধের খবর পেয়ে ঠিকাদার হাসানুজ্জামান বিপ্লবও সেখানে যান। আতাবুর ঠিকাদার বিপ্লব ও আজাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্থানীয়রা ছুটে এসে আতাবুরকে গণপিটুনি শুরু করে। এতে তিনি আহত হন। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অন্যদিকে যুবদল নেতা আজাদ আলী ও ঠিকাদার হাসানুজ্জামান ঘটনার দিন রাতে পবা থানায় যান চাঁদাবাজির মামলা করতে। কিন্তু খবর পেয়ে আতাবুরের ক্যাডার বাহিনী থানায় হাজির হয়ে আজাদ আলী ও হাসানুজ্জামানকে পুলিশের সামনেই বেধড়ক মারধর করে। তারা দুজনকে থানা হাজতে ঢোকাতে বাধ্য করে। কিছুক্ষণ পর আতাবুরের বাবা মতিউর রহমান থানায় উপস্থিত হয়ে আজাদ আলী ও বিপ্লবের বিরুদ্ধে তার ছেলেকে মারধর ও দুই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ দেন। পুলিশ কোনো কিছু যাচাই না করেই অভিযোগটি মামলা আকারে রেকর্ড করেন।

পবা থানার ওসি আবদুল মতিন বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ঠিকাদার হাসানুজ্জামান ও আজাদকে থানার সামনে বিক্ষুব্ধ লোকজন পিটুনি দেন। আমরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি। এর মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আতাবুরকে মারধরের অভিযোগে মামলা হয়। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার বিকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি নেতা আতাবুরের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। তার বাবা মতিউর রহমান বলেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ মিথ্যা। পূর্বশক্রতার জেরে আমার ছাওয়ালকে মারধর করা হয়েছে।

ঘটনার পর নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, আজাদ যুবদলের কর্মী, আতাবুরও বিএনপির কর্মী। তাকে চাঁদা দিতে হবে কেন। গত বছর ৫ আগস্টের পর আতাবুর মানুষকে অনেক অত্যাচার করেছে। যারা আতাবুরকে শেল্টার দিচ্ছে, তারাও হয়তো ভাগ খেয়ে থাকে।

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Exit mobile version