হোম জাতীয় নির্বাচনে ‘ডাব্বা’ মারলেও আক্ষেপ নেই আমজনতা’র তারেক এর

নির্বাচনে ‘ডাব্বা’ মারলেও আক্ষেপ নেই আমজনতা’র তারেক এর

0

নির্বাচনী লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছেন, যাকে তিনি নিজেই সহজ ভাষায় বলছেন ‘ডাব্বা মারা’। তবে এই পরাজয়ে নিজের বা পরিবারের বিন্দুমাত্র আক্ষেপ বা খারাপ লাগা নেই বলে জানিয়েছেন ‘আমজনতা দল’-এর সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি তার জীবনের লড়াই, রাজনীতি এবং বর্তমান পেশা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তারেক রহমান জানান, আইটি ব্যবসায়ী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে চাইলেও পরিবারের চাপে তিনি সরকারি চাকরির পেছনে ছোটেন। কিন্তু কোটা পদ্ধতির মারপ্যাঁচে বারবার ভাইভা দিয়েও তিনি ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, ‘সে সময় শিক্ষক নিয়োগে ৮৪ শতাংশ কোটা, রেলওয়েতে ৪০ শতাংশ পোষ্য কোটা ছিল। ব্যক্তিগত জীবনে বারবার আশাহত হয়েই এই ব্যবস্থা থেকে মুক্তির জন্য আমি কোটা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’ ২০১৮ সালের সেই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তাকে অসংখ্যবার বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সঙ্গে শত্রুতা তৈরির যে অপপ্রচার চলেছিল, তার তীব্র প্রতিবাদ জানান তারেক। তিনি বলেন, ‘আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য সম্মানজনক কোটা রেখেই ১৫ শতাংশের প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু তৎকালীন সরকারের জেদ ও রাগের কারণে পুরো সিস্টেমটাই বাতিল করা হয়, যা সঠিক সমাধান ছিল না।’ এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি ঠেকাতে গিয়ে তিনি প্রশাসনের হাতে আটক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।

চাকরির সুযোগ না পেয়ে জীবন ধারণের জন্য ব্যবসা শুরু করলেও সেখানে বারবার বাধার সম্মুখীন হন তিনি। তারেক রহমান জানান, পলাশী ও আগারগাঁওয়ের পাকা মার্কেটে তার দোকান ছিল, যা প্রশাসনের লোক দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মাঝেই তিনি অনলাইন ভিত্তিক আম ও মধুর ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে এই ব্যবসা থেকেই তার সংসার চলে এবং রাজনীতির ব্যয়ভার বহন করেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আশানুরূপ ফলাফল না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। তারেক বলেন, ‘২ দিন আগে নির্বাচনে ডাব্বা মারলাম। আমার বা আমার পরিবারের একটু খারাপও লাগে নাই। আল্লাহ আমাকে ওই জায়গার জন্য যোগ্য মনে করেন নাই। নেতৃত্ব আল্লাহ হতে আসে। হয়ত আমি সংসদের জন্য উপযুক্ত নই, তাই সেখানে আমার যাওয়া হলো না।’

বর্তমানে নিজের এই সাধারণ জীবন নিয়েই তিনি সুখী ও সন্তুষ্ট বলে জানান। আমজনতার অধিকার নিয়ে কাজ করা এবং আম-মধুর ব্যবসার মাধ্যমেই তিনি আগামীর দিনগুলো অতিবাহিত করতে চান।

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Exit mobile version